Friday , December 2 2022

বান্দরবান কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন? কি খাবেন?

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দরতম ও অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান জেলা। বান্দরবান ট্যুর প্ল্যান এ মেঘ আলতোভাবে ছুঁয়ে দেখতে চাইলে যেমন এখানকার নীলগিরি নীলাচল যেতে হবে, তেমনি পাহাড়ি রূপ ও পাহাড়ী সংস্কৃতি দেখার জন্য ঘুরতে হবে স্বর্ণমন্দির, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ইত্যাদি। এছাড়া এডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে নাফাখুম, অমিয়াখুম, বগালেক, কেওক্রাডং, তাজিংডং, জাদিপাই ঝর্ণা, ডিম পাহাড়, দেবতাকুম, আলীকদম সহ অনেক জায়গা। প্রকৃতিক রূপ বৈচিত্র্যে অনিন্দ্য সুন্দর এই জেলাকে বলা হয় “পাহাড়ি কন্যা”

কিভাবে যাবেন বান্দরবান?

দেশের প্রায় সব বিভাগীয় শহর থেকে বান্দরবানের বাস আছে। ঢাকা থেকে এসি – নন এসি সব ধরণের বাসই বান্দরবান যায়। নন এসির মধ্যে শ্যামলী, সৌদিয়া, ইউনিক, ডলফিন, সেন্টমার্টিন, এস আলম ইত্যাদি পরিবহনের বাস পাবেন। বাস ছাড়ে কলাবাগান, ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে। রাত এগারোটার মধ্যে লাস্ট বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো ট্রেনে উঠতে হবে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, সূবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশীথা, মহানগর ও গোধুলী সহ অনেকগুলো ট্রেইন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেন ও আসন ভেদে ভাড়া ২০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে হলে প্রথমে বহদ্দারহাট যেতে হবে। ওখান থেকে ৩০ মিনিট পরপর ‘পূর্বাণী’ ও ‘পূরবী’ নামে দুটি পরিবহনের বাস ছাড়ে। ভাড়া ২২০ টাকা।

বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

বান্দরবান প্রকৃতির এর অপূর্ব লীলাভূমি। এর সৌন্দর্যের টানে বছরজুড়েই এখানে পর্যটকরা ছুটে আসেন। প্রকৃতি এখানে রূপ বদলায় প্রতিটা মৌসুমে। এক এক সিজনে বান্দরবন একেক রকম। যারা মেঘ আর সতেজ প্রকৃতি দেখতে চান তাদের জন্য বান্দরবান ঘোরার আদর্শ সময় হলো বর্ষার শুরু থেকে হেমন্ত পর্যন্ত। অর্থাৎ জুন থেকে নভেম্বর। আর যারা বর্ষা এড়িয়ে শুকনো মৌসুমে বান্দরবানের ভিউ দেখতে চান তাদের জন্য ভালো সময় হচ্ছে ডিসেম্বর থেকে মার্চ। এপ্রিল -মে – জুন এই তিন মাস প্রচন্ড গরম থাকে বলে তখন বান্দরবান ভ্রমণ পরিকল্পনা না করাই শ্রেয়।

যেখানে থাকবেন (হোটেল ও রিসোট)

বান্দরবানে থাকার জন্য শহর ও এর আশেপাশে বেশকিছু হোটেল ও রিসোর্ট আছে। আপনার সুবিধামতো এর যেকোনোটিতে থাকতে পারেন। কয়েকটি হোটেলের নাম ও রুম ভাড়ার তালিকা-

হোটেল হিল ভিউ:

এর অবস্থান বাস স্ট্যান্ড এর পাশেই। এটি বেশ ভালো মানের একটি হোটেল। রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ২৮০০ টাকা।

পর্যটন মোটেল:

 এটি শহর ৪ কিঃমিঃ দূরে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এর কাছে অবস্থিত। রুম ভাড়া ক্যাটাগরি ভেদে ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা।

হোটেল নাইট হ্যাভেন:

এটিও শহর থেকে ৪ কিঃমিঃ দূরে নীলাচলের কাছে। এর রুম ভাড়া ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা।

হোটেল প্লাজা:

এটি শহরের মধ্যেই। এই হেটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে। ছিমছাম গুছানো সুন্দর হোটেল। রুম ভাড়া পড়বে ১৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা।

রিভার ভিউ:

শহরের ভিতর সাঙ্গু নদীর পাড়ে এই হোটেলটির অবস্থান। রুম ভাড়া ৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা।

বান্দরবান গিয়ে কোথায় খাবেন?

বান্দরবান শহরে খাওয়ার জন্য রয়েছে বেশকিছু রেস্তোরা। এর মধ্যে রূপসী বাংলা রেস্টুরেন্টে, কলাপাতা রেস্টুরেন্ট, ফুড প্যালেস, রি সং সং, তাজিং ডং ইত্যাদি রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন।

যেসব খাবার অবশ্যই খাবেন

সাধারণ বাঙালি খাবারের জন্য অনেক রেস্তোরাঁ থাকলেও, একেবারে ট্র্যাডিশনাল খাবার গুলো লোকাল হোটেলে পাওয়া যায়। বান্দরবান শহরের উজানিপারা সহ আরো কিছু জায়গায় আপনি লোকাল হোটেল পাবেন। আর, শহর ছেড়ে যতো ভিতরের দিকে যাবেন, ট্র্যাডিশনাল খাবারের হোটেল আরো বেশি পাওয়া যাবে।

বান্দরবানের হোটেল গুলো যেমন বাঁশের তৈরি, এর খাবারেও বাঁশের ব্যবহার ঠিক ততখানিই লক্ষণীয়। বাঁশ কোড়ল এখানকার খুব জনপ্রিয় একটি খাবার। এছাড়া, ব্যাম্বো চিকেন, ব্যাম্বো বিরিয়ানি, ব্যাম্বো চা বান্দরবানের জনপ্রিয় খাবার। কখনো কখনো বাঁশের ভেতর মাছও রান্না করে তারা।

বান্দরবানে বসবাসরত মারমা গোষ্ঠীর একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো মুন্ডি বা মান্দি। বর্তমানে লোকাল হোটেল গুলোতে এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মুন্ডি তৈরিতে প্রথমে, দুই থেকে তিন দিন চাল ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে, পানি ঝড়িয়ে শুকানোর পর গুড়ো করা হয়। পরে তা দিয়ে তৈরি করা হয় নুডলস। এই খাবারটি ফিশ কারী, স্যুপ, চিংড়ি এবং সামান্য লেবুর সাথে সার্ভ করা হয়।

পরিশেষে বলতে চাই যখন যেখানেই ঘুরতে যান সব সময় খুব সাবধানে থাকবেন। বিশেষ করে বান্দরবান ট্যুরে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ বান্দরবান পাহাড়ি এলাকা যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অনেক বড় দূর্ঘটনা।

Check Also

World University Ranking

বিশ্বসেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই বাংলাদেশ, ভারতের ৯টি পাকিস্তানের আছে ৩ টি

একটা দেশ শিক্ষায় কতটা উন্নত তা মোটামুটি ঐ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং দেখলেই অনেকটা বুঝা যায়। …